০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০ ইং

ধর্ষণকারী আমাদের কেউ হতে পারেনা

নিউজ ডেস্ক | যুগের কণ্ঠ .কম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২০
ক্যাটাগরি : নারী ও শিশু
পোস্টটি শেয়ার করুন

একটি দেওয়াল দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম লেখা আছে: ‘সময়টা এখন আমাদের’। একটু চিন্তা করলাম! সুন্দর শ্লোগান। কিন্তু কেন যেন আমার মনে হল, ‘সময়টা এখন আমাদের’ লেখা ঠিক নয়!লেখাটি হ‌ওয়া উচিৎ ছিল ‘সময়টা এখন ধর্ষকদের’"এই লেখাটি থাকলেই যথোপযুক্ত হত। সময়টা এখন ধর্ষকদের, বাংলাদেশ এখন ধর্ষকদের অভায়ারণ্য। এ দেশে ধর্ষণের মহাৎসব চলছে। তিন বছরের বাচ্চা থেকে শুরু করে কিশোরী, যুবতী, মধ্যবয়সী,সবাই শিকার হচ্ছেন ধর্ষণের। অভিজাত হোটল থেকে থেকে বস্তি এলাকা-ধর্ষকদের অভযারণ্য যেন সবই। পশ্চিমা পোশাকের নারী যেমন টার্গেট হচ্ছেন তেমনি হচ্ছেন হিজাব-পরিহিতারা। নিম্নবিত্ত বা বিত্তহীন নারী কেবল নন,শিক্ষিত মধ্যবিত্ত থেকে ধনীর দুলালিকে ও পোহাতে হচ্ছে ধর্ষণের নরকযন্ত্রণা।

ধর্ষণ করছে কারা? নন্দকিশোর থেকে শুরু করে যুবক ও মধ্যবয়সীরা–দিনমজুর থেকে দিনে কয়েক লাখ টাকা হাতখরচ পাওয়া ধনীর দুলাল। মনে হচ্ছে যেন ধর্ষণ একটা স্বাধীন সার্বভৌম ক্রীড়া,যা শুধু পুরুষরাই খেলতে পারে। নারীর মতের তোয়াক্কা না করেই!

ধর্ষণ হচ্ছে কোনো কোনো পুরুষের পৌরুষ প্রকাশের এক মহাস্ত্র।পুরুষদের শারীরিক গঠনে জৈবিক ইচ্ছার যে তীব্রতা সেটি কি তাদের ধর্ষণেচ্ছুক হয়ে ওঠার কারণ? বিষয়টি তা নয়। সমাজ আর সংসারে নারী বিষয়ে নিজের যাবতীয় সৎ-অসৎ ইচ্ছাপূরণে যাবতীয় প্রশ্রয় পেলেই পুরুষ ধর্ষক হয়ে উঠতে সাহস পায়। উন্নত বিশ্বে ধর্ষক ধরা পড়লে ‘পার’ পেয়ে যায় না সহজে–সমাজে বা রাষ্ট্রে ধর্ষকের অবস্থান যা-ই হোক না কেন। কিন্তু আমাদের সমাজের ‘ছাড় দেওয়ার’ সংস্কৃতি ধর্ষণ উৎসাহিত করে।

এই সমাজে যে ছাড়ের কথা বলছি তা আইন ও রাষ্ট্রও দেয় ধর্ষককে।মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো এখন আবার ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ধর্ষণের মতো অপরাধটির উচ্চ মাত্রা দেওয়ার বন্দোবস্ত হল। বিয়ে নামের তুলসি পাতা দিয়ে ধর্ষণকাজ ধুয়ে নেওয়ার এই উদ্ভট ‘আইডিয়া’ যে নীতিনির্ধারকদের মস্তিস্কে খেলা করেছে, তাদের সুপ্ত মনে ধর্ষকদের প্রতি যে খানিকটা সহানুভূতি বা সমর্থন কাজ করে তা বলা বাহুল্য। না হলে ধর্ষকদের জন্য আরও কঠিন আইন এবং ধর্ষিতার পুনর্বাসনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিকল্পনা না নিয়ে,ধর্ষণের দোহাই দিয়ে নারীর বিয়ের বয়স কমিয়ে দেওয়ার আইনটি হত না। তাতে প্রমাণ হল, রাষ্ট্রযন্ত্র এখনও পুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিকতার বলয়ে আবদ্ধ।

আমাদের দেশের মধ্যে ধর্ষণের মামলা থানাগুলো নিতে চায় না। প্রায় সকল ধর্ষণের ঘটনায় থানার এ অনীহার অভিযোগ রয়েছে। কারণটা কী? শুধু থানার কর্তৃপক্ষকে বা প্রশাসনকে দায়ী করে লাভ নেই, বনানীর ছাত্রীধর্ষণের ঘটনায় ‘মেয়েগুলো গেল কেন’ এ ধরনের প্রশ্ন করে অনেক প্রগতিশীলও পরোক্ষভাবে ধর্ষকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

যখন প্রগতিশীলদের মুখ থেকে এ প্রশ্ন উচ্চারিত হয় তখন মনে হয়েছে, আমাদের সমানাধিকারের লড়াইটা আসলে অরণ্যে রোদন। একেকটা ঘটনা অনেকের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়। যারা মুখোশ পরে অকাতরে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের বয়ান করে যান। এরা কর্মস্থলে নারী সহকর্মীকে হেনস্থা করেন– ঘরে স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বস্ত হন। এরাও মনে মনে এ মানসিকতা পোষণ করেন যে, নারী মানেই ভোগ্যবস্তু। এই প্রগতিবাদীরাও ধর্ষণ করেন। তবে তাদের ধর্ষণ অন্যরকম। একটা মেয়ের জীবনের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে দিয়ে তারাই সমানাধিকারে সোচ্চার সংগঠনের অনুষ্ঠানে প্রধান বা বিশেষ অতিথি হয়ে বসেন, বক্তৃতা দেন।

সমাজের ক্ষমতাধর যারা তারা আইনের উর্ধ্বে থাকেন। অর্থ, প্রতিপত্তির কারণে শুধু ধর্ষণের মতো অপরাধ নয়, যে কোনো অপরাধ থেকে তারা মুক্ত হয়ে সুখে শান্তিতে ঘুরে বেড়ায় আমাদের চোখের সামনে। তবে ইদানিং বনানী,ময়মনসিংহ আর বগুড়ার ঘটনা মিডিয়ায় আলোড়িত হওয়ার কারণে হয়তো প্রভাবশালী হয়েও ধর্ষক ও তাদের সহযোগীরা বিচারের আওতায় এসেছে। তবে তাতে উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই কিন্তু মিডিয়ার অগোচরে আরও কত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে তার হিসাব করতে গেলে একটা পচা গলিত সমাজের ছবি উঠে আসবে আমাদের সম্মুখে।একজন মানুষের পরিচয় কি একজন ধর্ষণকারী?নাকি একজন মানুষ হিসেবে?তাদের পরিচয় পাওয়া যাবে আমাদের দেশে কিংবা সমাজে?


Comments



শ্রীনগরে শিশু শ্রেণীর…

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

শ্রীনগরে অষ্টম শ্রেনীর…

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শ্রীনগরে পানিতে ডুবে…

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০

গর্ভবতী ভাতা প্রদানের…

মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২০

শিশুদের সঙ্গে খেললেন…

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে…

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

নারী ও শিশুদেরকে ধর্ষণের…

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২০

ধর্ষণকারী আমাদের কেউ…

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের…

মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২০

জরিপ

ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তিকে আড়াল করতে যুবলীগ নেতা সম্রাটককে গ্রেপ্তারের নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আপনি কি তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

হ্যাঁ
না
মন্তব্য নেই



নামাজের সময়সূচি

২৯ নভেম্বর, ২০২০
ফজর৫:২০
জোহর১২:১২
আসর৪:৪৩
মাগরিব৫:৪৯
ইশা৭:০১
সূর্যাস্ত : ৫:৪৯সূর্যোদয় : ৬:৩৭